কালিগঞ্জে বেলাই বিলের শাপলায় তৈরি হচ্ছে ঔষুধ, স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন গ্রামবাসীর

0

মোখলেসুর রহমান জাহিদ, কালীগঞ্জ: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বিশাল বেলাই বিল এর চমৎকার দৃষ্টি নন্দনিক লাল শাপলা বিক্রি করে সাবলম্বী হওয়ার সপ্ন দেখছে কিছু দারিদ্র গ্রামবাসীকে। আবার সেই শাপলা দিয়ে তৈরী হচ্ছ মূল্যবান ঔষুধ। কিন্তু এর প্রকৃত মূল্য কৃষকরা পাচ্ছেনা।

বেলায় বিলের শাপলা বিক্রির জন্য তোলা হচ্ছে

বেলায় বিলের শাপলা বিক্রির জন্য তোলা হচ্ছে

আষিণ- কার্তিক মাসে খুব সকালে ঘাসের উপর যখন হালকা শিশির এর ছোঁয়া পরে তখন গাজীপুর এর কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের নরুন, দেওতলা বরাইয়া, বারিয়াদি, পুনসহিসহ কতিপয় গ্রামের আশে-পাশে বেলায় বিলের বিশাল এলাকা জুরে চৎমকার দৃষ্ট নন্দনিক ফুটে থাকা লাল শাপলাগুলোর দিকে তাকালে মনে হয় যেন পানির উপর সৃষ্টকর্তার বিছিয়ে দেওয়া কোন লাল গালিচা।

হঠাৎ ভোরের আলোতে এই বিশাল আয়তন জুরে লালা শাপলায় চোখ পড়তেই মনে হয় এটি যেন একটি বিশাল শাপলা রাজ্যে। এই বেলায় বিল ছয় মাস পানির নিচে ডুবে থাকে আর ছয় মাস কৃষকের জন্য বোঁর ধান চাষের জমি হিসেবে ব্যবহার কারা হয়।

আষিণ কার্তিক মাসে কিছু গ্রামের দরিদ্র বাসিন্দা নৌকা দিয়ে বিল থেকে লাল শাপলা তুলে সেগুলো কেটে অর্ধ হাত দৈঘ্যের মতো ছোট ছোট টুকরো করে, রোঁদে শুখিয়ে
ব্যবসায়ীর কাছে কেজি হিসেবে বিক্রি
করে। প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের দেওতলা গ্রামবাসী কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই শাপলা বিক্রি করে আর্থিকভাবে সাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন।

বেলায় বিলের শাপলা

বেলায় বিলের শাপলা

জগদীস চন্দ্র (৪৫)নামে এক গ্রামবাসী গাজীপুর টাইমস কে বলেন, এই গ্রামের অনেকেই তার মতো বর্ষাকালে শাপলা বিক্রি করে মুটামুটি ভাল টাকা আয় করতে পারে এবং তাদের গ্রামের এই বিল থেকে দু- মাসে প্রায় ১০০-১২০ মণ শুখনো শাপলা বিক্রি কারা হয়। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় যে,এই শাপলা দিয়ে পরবর্তীতে কি কাজ করা হয়? তিনি বলেন, এই শাপলা দিয়ে অনেক গুরুত্বপূরর্ণ ও দামী ঔষদ তৈরী করে দেশের বিভিন্ন কোম্পানি।

যদিও ব্যবসায়ীরা তাদের কাছে থেকে নাম মাত্র মূল্যে কিনে নেয় কিন্তুু পরবর্তীতে এগুলো দিয়ে অনেক দামী ঔষদ তৈরী করা হয় বলে জানান জগদীশ চন্দ্র। এই গ্রামের “জগদীশ চন্দ্রের “মতো আরো অনেকেই দারিদ্রতা থেকে কিছুটা হলেও অর্থিক সাবলম্বী হওয়ার সপ্ন দেখছে এই বেলায় বিলের লাল শাপলা দ্বারা।

ভোক্তভোগীরা জানান, শাপলার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারন কৃষকরা। এটাকে সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রন করলে এলাকার বেকারত্ব দূর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গাজীপুর টাইমস ১৫/১১/১৬/০০৭

Share.

Comments are closed.