শ্রীপুরে বালু ব্যবসায়িদের কাছে জিম্মি কয়েক হাজার মানুষ

0

বিশেষ প্রতিনিধি:
ইট-বালুর ব্যবসায়িদের সেচ্ছাচারিতা আর প্রশাসনের উদাসীনতায় গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থেকে বরমী পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পরেছে। এতে করে প্রায় এক মাস ধরে রাস্তাটিতে সব ধরণের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন রাস্তার এমন হ-জ-ব-র-ল অবস্থাতে জনপ্রতিনিধিরাও কোনো ভ্রুক্ষেপ করছেন না।
ফলে অসহনীয় ভোগান্তিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসি।

রাস্তার বেহাল দশা

রাস্তার বেহাল দশা

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহ থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় কাদাপানিতে একাকার হয়ে গেছে সড়কটির অবস্থা। এর আগে সড়কের লাল ধুলোবালিতে মানুষ, পরিবহন সব কিছু লাল রঙে রঙিন হয়ে যেত। সবমিলিয়ে এ সড়কে জনদুর্ভোগ স্থায়ী হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় ছোট খাট দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে। বছর খানেক আগে সড়কটি সংষ্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। দুই কিলোমিটার অংশ সংষ্কার করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জান গেছে, শীতলক্ষ্যার তীর ঘেঁসে শত বছর আগে গড়ে উঠে গাজীপুর জেলার অন্যতম ব্যবসায় কেন্দ্র বরমী বাজার। সম্প্রতি বাজারটির আশপাশে প্রায় অর্ধশতাধিক স্পটে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে বৈধ ও অবৈধ উপায়ে বালু উত্তলন করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া এলাকাটিতে রয়েছে শাতাধিক ইট ভাটা। এসব ইট বালু সরবারহ করার জন্য প্রায় সবসময়ই ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই ট্রাক চলাচল করে। ফলে রাস্তাগুলো সংস্কার করলেও বেশি দিন এর সুফল পান না এলাকাবাসি।
এসব বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম বলেন, এ সড়কে বালভর্তি ভারী যানবাহন চলাচল করে। সাত কিলোমিটার সড়কের দুই কিলোমটিার সংষ্কার করা হয়েছে। বাকি অংশে ইটের খোয়া বিছানো হয়েছে। পরে দেখা গেছে, সড়কটি খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

রাস্তায় আটকে পড়া গাড়ী

রাস্তায় আটকে পড়া গাড়ী

জানা গেছে, গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে সড়কটিতে খানা খন্দে ভরে আছে। কতৃপক্ষের কোনো তদারকি না থাকায় সড়কটি একেবারেই যান চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। ঝড়ছে প্রাণ। এমন অবস্থায় এক মাস আগে এই রুটে চলাচলকারি একমাত্র বাস সার্ভিস ‘প্রভাতি বনশ্রী’ পরিবহন বন্ধ করে দেয় কতৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট গাড়ী চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শ্রীপুর থেকে বরমী মাত্র ৬ কিলোমিটার রাস্তা পার হতে সময় লাগে এক ঘন্টার উপরে। তাছাড়া রাস্তা নষ্ট থাকায় গাড়ির যন্ত্রাংশের ও ক্ষয় হয়। ফলে বাধ্য হয়ে গাড়ী নিয়ে বরমী না যাওয়ার সিধান্ত নেন তারা। তবে রাস্তাটি সংস্তার করা হলে আবার আগের মতোই বাস চলবে বলে জানান একাধিক গাড়ি চালক।
বাস সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আরও চরম ভোগান্তিতে পড়েছে গাড়ারন, বড়পানি, শিমুলতলী, তাঁতীসুতা, বরামা, কায়েতপাড়া, নয়াপাড়া, পেলাইদ, পাঠান টেক, বরমীসহ পাশ্ববর্তী কাপাসিয় উপজেলা ও ময়মনসিংহের দক্ষিাংশের হাজার হাজার মানুষ। বাস ভাড়ার তিন গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে সিএনজি বা লেগুনা দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাতায়াত করছেন তারা। এর মধ্যে রাস্তার বিভিন্ন অংশে সিএনজি আটো রিক্সা উল্টে হতাহতের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।
গাজীপুর জজ কোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজিবি রুহুল আমিন গাজীপুর টাইমসকে বলেন, প্রতিদিন সকালে সিএনজিতে করে কোর্টে যেতে হয়। ভয় আর আতঙ্কের মধ্য দিয়ে আল্লাহ আল্লাহ করে রাস্তা টুকু পার হওয়া লাগে। কখনো কখনো সিএনজি উল্টে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এভাবে কোনো এলাকার মানুষ বাঁচতে পারে না। একটু বৃষ্টি হলেই কাঁদা দিয়ে কাপর চোপর নষ্ট হয়ে যায়। কোর্টে গিয়ে আবার তা পরিবর্তন করা লাগে। আর শুকনা দিন থাকলে ধুলা বালু তে সব একাকার হয়ে যায়।
বাস চলাকালিন সময়ে দশ টাকা দিয়ে আসা যাওয়া সম্পন্ন হলেও প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতে প্রায় ১’শ টাকা খরচ হয় বলে জানান কায়েতপাড়া গ্রামের শ্রীপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী তাওহীদুল ইসলাম। এছাড়া এলাকার শত শত চাকুরিজীবি ও ব্যবসায়িরা সঠিক সময়ে কর্মস্থলে পৌছাতে পারেন না। তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্বল্প আয়ের গার্মেন্টস কর্মীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মহিলা গার্মেন্স কর্মী জানান, মাসে আট-নয় হাজার টাকা বেতন পান। এর মধ্যে চার হাজার টাকার বেশি চলে যায় আসা-যাওয়াতেই।
রাস্তার বেহাল দশা

রাস্তার বেহাল দশা

খোজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের শুরুতে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হয়। কিন্তু বছর খানেক সময় বিলম্ব করে মাত্র দুই কিলোমিটার অংশ সংস্কার করা হয়। বাকি অংশে ইটের খোয়া বিছিয়ে বছর খানেক ধরে ফেলে রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, এ সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন বেশি চলাচল করে। ফলে আগের ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। নতুন নকশা ও পরিকল্পনা তৈরী করে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মহাসড়কের মতো উপকরণ ব্যবহার করে সড়কটি নির্মাণ করা হবে। অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন পরিকল্পনায় সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
গাজীপুর টাইমস/০৩/০৪/১৭/০০৭

Share.

Comments are closed.